সুব্রত আচার্য
আপডেট
১৩-০৯-২০১৮, ১২:১৫
পশ্চিমবঙ্গ

১০ বছর নিখোঁজ জামালপুরের মোর্শেদা বাড়ি ফিরছে

vlcsnap-2018-09-13-11h41m59s691
দশ বছর পর বাড়ি ফিরছে বাংলাদেশের জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার পশ্চিম ব্রাহ্মণপাড়ার বাসিন্দা মোর্শেদা খাতুন। এই ১০ বছরের মধ্যে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের একটি সরকারি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন প্রায় ছয় বছর।

বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) নদীয়া জেলার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে মোর্শেদাকে।

কলকাতা থেকে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে মোর্শেদা খাতুনের চাচাতো ভাই শফিকুল ইসলাম জানান, তারা মোর্শেদা ফিরে আসার খবর জানেন না। তবে সময় টেলিভিশনের মাধ্যমে তারা এই খবর জানাতে পেরে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

বোন ফিরে আসছে এমন খবরে খুশি হলেও আগেভাগে খবর না পাওয়ায় কিছুটা হতাশও মোর্শেদার পরিবার। তবে, বহরমপুর মানসিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খুশি। কেননা, দীর্ঘ ছয় বছরে চিকিৎসা করে তারাই মোর্শেদাকে মানসিকভাবে সুস্থ করে তুলেছে। আর এই গোটা প্রক্রিয়ায় সাহায্য করেছে অঞ্জলি নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

ওই সংস্থার পরিচালক রত্নবলি রায় জানান, এটা ভীষণ সুখের যে এত বছর পর মোর্শেদা তার পরিবারের কাছে ফিরতে পারছে।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হয়ে মোর্শেদাকে ‘মিউজিক থেরাপি’ দেওয়ার কাজটি করেছেন স্বাতীলেখা ধরগুপ্ত। তিনি জানান, প্রায় চার বছর ধরে মোর্শেদাকে দেখছি। ভীষণ ভালো একজন মানুষ। সুস্থ হয়ে বাড়ির ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছিল। এবার বাড়ি ফিরছে এটাই আমরা চেয়েছিলাম। তবে আমরা সবাই মোর্শেদাকে খুব মিস করবো।


একই কথা বললেন, ওই সংস্থার আরো দুই কর্মকর্তা সানন্দা গুপ্ত ও স্বরুপ রায়ও। বৃহস্পতিবার সকালে মুর্শিদাবাদ জেলা গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা যখন দেশে পাঠানোর জন্য মোর্শেদা খাতুনকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাচ্ছেন, তখন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। মোর্শেদাকে সিক্ত চোখে বিদায় জানান হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং অঞ্জলির সদস্যরা।

মোর্শেদাও কাঁদেন। তবে যাওয়ার আগে তিনি সবাইকে গান শুনিয়ে মুগ্ধ করেন। বলেন, ভালো থেকো তোমরা সবাই। ভারত তথা এই রাজ্যে আমি আশ্রয় পেয়েছি; চিকিৎসা পেয়েছি- তারাই আবার আমাকে আজ হারানো পরিবারের কাছে ফেরাচ্ছে। এটা, সারা জীবন মনে থাকবে আমার।

মোর্শেদা খাতুন জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার পশ্চিম ব্রাহ্মণপাড়ার বাসিন্দা নমাজ উদ্দিন নন্দা মিয়ার একমাত্র মেয়ে। দুই মেয়ে এবং এক ছেলে সন্তানের মা তিনি। এই থানা এলাকার গোজামানিকা গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর শেখের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে তার নানা বিষয়ে বিরোধ শুরু হয়। সেই বিরোধের কারণে একদিন মোর্শেদাকে জোর করে বাবার বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে জামালপুর রেল স্টেশনে রেখে আসে। 

মোর্শেদার পরিবার থেকে জানানো হয়, সেদিন থেকেই নিখোঁজ মোর্শেদা খাতুন।

২০১৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার পুলিশ, অচেনা এক নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ বুঝতে পারে, উদ্ধার হওয়া নারী মানসিকভাবে অসুস্থ।

২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারি পুলিশ মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে ওই নারীকে। এরপর সেখানে ডাক্তারি চিকিৎসার পাশাপাশি নানাভাবে তাকে সুস্থ করে তোলা হলে ওই নারী নিজের নাম ঠিকানা জানান অঞ্জলি সংস্থার স্বাতীলেখা ধরগুপ্ত কে। তার এক আত্মীয় আবার ঢাকার বাসিন্দা। সেই আত্মীর মাধ্যমে জামালপুরের এক সাংবাদিক গোটা বিষয়টি তদারকি করেন এবং মোর্শেদার ঠিকানা খুঁজে বের করেন। 

১০ বছর নিখোঁজ থাকা মোর্শেদার পরিবারের সন্ধান পাওয়ার পর, চলতি বছর মার্চ মাসে কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বি এম জামালের কাছে লিখিতভাবে মোর্শেদাকে তার পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানোর আর্জি জানান অঞ্জলির আরেক কর্মকর্তা অদিতি বসু।

ওই কাজে সহযোগিতা করে ”সময় টেলিভিশন” এর কলকাতা অফিসও।

 




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে